লালমনিরহাট সদর থানাহাজত থেকে গত শুক্রবার রাতে পালিয়ে যাওয়া অস্ত্র মামলার আসামি মুরাদ হোসেনকে (২২) ৩৩ ঘণ্টা পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রংপুরের সাতমাথা এলাকা থেকে আজ রোববার ভোর পাঁচটার দিকে তাঁকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়।

লালমনিরহাট সদর থানার পুলিশ রোববার বিকেলে মুরাদ হোসেন ওরফে আনন্দকে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মণ্ডলের আদালতে সোপর্দ করে। আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাঁকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

লালমনিরহাট সদর থানার পুলিশ গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে লালমনিরহাট শহরের বালাটারী গ্রামের আদর্শ কলোনির বাসিন্দা মো. ইসলামের ছেলে মুরাদকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ আটক করে। মুরাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ লালমনিরহাট রেল বিভাগীয় কার্যালয়ের রেল বিভাগীয় পার্সোনাল অফিসারের কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী পারভেজ আখতার (৪১) ও বালাটারী গ্রামের আদর্শ কলোনির মহর আলীর ছেলে শহিদুল ইসলামকে একই দিন আটক করে। এই তিনজনের বিরুদ্ধে লালমনিরহাট সদর থানার এসআই মাইনুল ইসলাম বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে একটি মামলা করেছেন।

পুলিশের দাবি, গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে মুরাদ হোসেন থানার পরিদর্শকের (তদন্ত) কার্যালয়ের শৌচাগারের ভেন্টিলেটর ভেঙে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানার এএসআই ও ঘটনার দিনের ডিউটি অফিসার আনোয়ার হোসেন থানার হেফাজত থেকে মুরাদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একটি মামলা করেন।

এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও অস্ত্র উদ্ধার মামলার বাদী লালমনিরহাট সদর থানার এসআই মাইনুল ইসলাম রোববার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, মুরাদকে ৩৩ ঘণ্টা পর রংপুরের সাতমাথা এলাকা থেকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, প্রায় বছর দেড়েক আগে লালমনিরহাট শহরের বাবুপাড়ায় পারভেজ আখতারের বাসায় রঙের কাজ করার সময় রংমিস্ত্রি মুরাদ হোসেন ও শহিদুল ইসলাম একটি বিদেশি পিস্তল চুরি করেন। একপর্যায়ে পিস্তলটি দেখতে পেয়ে মুরাদের মা মরিয়ম বেগম তা বাড়িতে মাটির নিচে পুঁতে রাখেন। পরে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে ও প্রথমে মুরাদকে আটক করে।