রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার গানে লিখেছেন “তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার সোনার হরিণ চাই”। রবী ঠাকুরের এই গানের কথার মতোই সরকারী চাকুরী সোনার হরিণ। লোকমুখে শোনা যায় সরকারী চাকুরী পেতে টাকা/রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়া হয়না। সরকারি চাকরি পাওয়া সোনার হরিণ পাওয়ার মতো। কিন্তু এবার নীলফামারীতে পুলিশে চাকুরী পাওয়া ১২৯ জন বলছে অন্য কথা। টাকা-রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াও যে চাকুরি হয় তার জলন্ত প্রমান হিসাবে নিজেদের কে এখন ভাগ্যবান সাক্ষী হিসাবে মনে করছেন এই ১২৯ জন।

কোনো ধরনের ঘুষ বা অনৈতিক সুবিধা ছাড়াই পুলিশে নিয়োগের যে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল তার বাস্তবায়ন করেছেন নীলফামারী পুলিশ মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন । স¤পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে জেলায় পুলিশ কনস্টেবল পদে ১২৯ জনকে চাকরি দিয়ে দৃষ্টান্ত দেখালেন তিনি। আজ মঙ্গলবার দুপুরে এই নিয়োগ নিয়ে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।

সরেজমিনে দেখা যায় রিক্সাচালকের ছেলে, কৃষি শ্রমিকের ছেলে মেয়ে, এতিম ছেলে ও অসহায় পরিবারের বেকার ছেলেরা যখন নিজেদের মেধা বিকশিত করে চাকুরির প্রতিযোগীতায় পুলিশে চাকুরী পেয়েছে!

আজ মঙ্গলবার চাকুরি পাওয়াদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলার সময় দেখা যায় তাদের চোখে পানি চলে আসে। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, চাকরিটা তাদের খুব দরকার ছিল। চাকরি পেয়ে সকলেই খুশি। পরিবারের দেখাশোনা ও ছোট ভাই বোনদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিতে চায় তারা। সৎভাবে চাকরি

করে দেশ ও জনগণের সেবা করতে চায়। এমনকি শপথ নিয়েও জানায় ঘুষ খাব না, অসৎপথে যাব না। ১০৩ টাকায় চাকরি পাওয়ায় তারা দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নীলফামারী পুলিশ সুপারে প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে নীলফামারী পুলিশ লাইন্স মাঠে প্রায় দুই হাজার ৫’শ জনের মধ্য থেকে শারীরীক বাছাই শেষে(প্রাথমিক বাছাই) ৭৭৮জনকে লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়।

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৪৬জনকে নির্বাচন করা হয় মৌখিক পরীক্ষার জন্য। মৌখিক পরীক্ষা শেষে ২৭জুন প্রকাশ করা হয় চূড়ান্ততের তালিকা। নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে পুলিশ মহাপরিদর্শকের প্রতিনিধি হিসেবে নীলফামারীতে ছিলেন এসপি ও অতিরিক্ত এসপি পর্যায়ের দু’জন কর্মকর্তা। এ ছাড়া চাকুরী প্রদানের ক্ষেত্রে কোন সুপারিশ গ্রহণ করা যেমন হয়নি তেমনি সরকারী কোন নিয়মকে উপেক্ষা করা হয়নি। জেলা পুলিশ সুত্র জানায়, ১২৯জনকে নির্বাচিত করা হয়। দীর্ঘদিন থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূরণ না হওয়ায় সেগুলো পূরণ করেও অবশিষ্ঠ অপুর্ণ পদগুলো পূরণ করতে মেধাবীদের নেয়া হয়েছে ।

পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের উদ্দেশ্যে এক মাস আগ থেকে প্রচার-প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ করা হয়। যা আর্থিক লেনদেনসহ সব অনিয়ম ও সুপারিশ পরিহার করে সুষ্ঠুভাবে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের বিষয়টি স¤পন্ন করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। শতভাগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া স¤পন্ন করতে পেরে খুব ভালো লাগছে আমার। আগামীতেও এমন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে