কনস্টেবল নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে কলঙ্কে ক্ষত-বিক্ষত ছিলো পুলিশ। কোটা আর মোটা অংকের অর্থের লেনদেনই এতোদিন ছিল যোগ্যতার মাপকাঠি। তলানিতে গিয়ে ঠেকা পুলিশের এ ভাবমূর্তি উন্নয়নে নজর দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীকে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্যদের চাকরি নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ দিলেন।

হ্যাট্টিক প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশে সততার শক্তিতে ভর করেই আইজিপি নিজের বাহিনীর এসপিদের শেখালেন পরিচ্ছন্ন নিয়োগের মন্ত্র। ঘুনে ধরা একটি ব্যবস্থাকে বদলে দিতে গ্রহণ করলেন কার্যকর পদক্ষেপ। ফলে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) হিসেবে ৯ হাজার ৬৮০ জন কনস্টেবল নিয়োগে এবারো দুর্নীতির কোন কালিমা লাগেনি।

যোগ্যতার বলেই কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছেন অতি দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তানরা। আর প্রধানমন্ত্রীকে স্বচ্ছ এমন নিয়োগ উপহার দিয়ে দেশজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বিপিএম (বার)।

জানতে চাইলে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বিপিএম (বার) প্রতিবেদক কে বলেন, সাধারণত দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি করতে আসে। প্রধানমন্ত্রী আমাকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন যাতে এ কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় থাকে। আমি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছি। যার সুফল হিসেবেই যোগ্যতা ও মেধার মাপকাঠিতে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।নড়াইলের সাকিবুর রহমানের কথাই ধরা যাক না। তাঁর মা স্থানীয় বরাশুলা গ্রামের বাসিন্দা সাবিনা ইয়াসমিন সদর চার রাস্তায় ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করেন। কোনদিনও ভাবেননি তাঁর ছেলে সাকিবুর রহমান ঘুষ ছাড়াই পুলিশে চাকরি পাবেন। একই জেলার বেতবাড়িয়ার সুপ্তিকণা বিশ্বাসের বাবা ছমির বিশ্বাস স্থানীয় একটি কাঁচাবাজারে রুটি বিক্রি করতেন।

বাবা-মা দু’জনের স্বপ্ন ছিল মেয়ে একদিন পুলিশে চাকরি করবে। কোন রকম তদবির বা অর্থ ছাড়াই তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন মেয়ে। সুপ্তিকনা বিশ্বাস সেই কথা জানিয়ে কালের আলোকে বলেন, ‘এসপি স্যার ফরম কেনার ৩ টাকা নেননি। অর্থাৎ, আমার চাকরি হয়েছে সরকারি কোষাগারে মাত্র ১০০ টাকা জমা দিয়ে। ঘুষ ছাড়াই চাকরি হয় এটা ভেবেই মা দুর্গা বিশ্বাস কেঁদেছেন অঝোরে।’

লতা খাতুন ও প্রিয়া খাতুনের চাকরি হয়েছে পুলিশে। অথচ ওদের মামা-চাচার জোর নেই। জো নেই কোন তদবির করারও। টাকা দেওয়ার জন্য বিক্রি করার মতো জমিজিরাত নেই। আর এসব হবেই বা কী করে? মেহেরপুরের মুজিবনগর সরকারি শিশু পরিবারে ওরা বেড়ে উঠেছেন। নিজের মেধার গরিমায় বিজয় বৈজয়ন্তী উড়িয়েছেন।

সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা কিংবা ভাত জোটাতেই কষ্ট এমন বেশিরভাগ পরিবারের মেধাবী সদস্যদের মাঝেই এখন রাজ্যের সুখ। যোগ্যতা ও মেধার মাপকাঠিতে পুলিশে চাকরি হওয়ায় এ আনন্দ অফুরন্ত। সময়ের গতিধারায় ঘুষ কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখরোচক কাহিনীও যেন অতীত!

আগে যেখানে তাঁরা শুনতেন ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা ঘুষ না দিলে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি হয় না এখন বাস্তবে ‘ঘুষ’ ছাড়াই নিজেদের চাকরি হয়েছে। তাঁরা হৃদয়ে বুনছেন নতুন স্বপ্ন। অঙ্গীকার করেছেন দেশের প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার।

ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) হিসেবে ৯ হাজার ৬৮০ জন কনস্টেবল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই বছরের পর বছর চলে আসা নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে নন্দিত হয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বিপিএম (বার)। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যার নির্দেশেই ২০১৮ সালের মতোই এ নিয়োগেও ঘুষ লেনদেন বা উৎকোচ বন্ধ করতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করেন পুলিশের সৎ ও পেশাদার এ সর্বোচ্চ কর্মকর্তা।

পুলিশ সদর দফতরের ৬৪ জেলায় একটি করে উচ্চপর্যায়ের টিম, পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিট ও রেঞ্জ ডিআইজির নজরদারি কমিটি, পুলিশ সদরদপ্তর থেকে একজন পুলিশ সুপার (এসপি) ও একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সমন্বয়ে বিশেষ টিম সবকিছু মিলিয়ে দুর্নীতির ‘কালোব্যাধি’ দূর করতে পুলিশের আইজির এসব পদক্ষেপই মূলত প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্যদের চাকরি নিশ্চিত করে।

ঘুনে ধরা একটি ব্যবস্থাকে আমুল পাল্টে দিয়েছেন আইজিপি
পুলিশ প্রধানের ‘ফলোআপ অ্যাকশনে’ প্রবল ত্রাসের সঞ্চার হয় জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঝেও। ত্রাহি ত্রাহি রব উঠে পাতি নেতা থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদের দূয়ারে! নিজের একাগ্রতা আর সাহস দিয়ে যে ঘুনে ধরা একটি ব্যবস্থাকে আমুল পাল্টে দেওয়া যায় এবং স্বচ্ছ আর নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় আবারো সেটি প্রমাণ করেছেন পুলিশের এ আইজি।

শুধু তাই নয়, তদবির বা চাপের মুখেও নীতিতে অটল থাকতে ‘নিয়োগকর্তা’ জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি) মন্ত্র শিখিয়েছেন। নানা হুঁশিয়ারি ও পদক্ষেপের বার্তা পৌঁছে আইজিপি জানিয়ে দিয়েছিলেন পুলিশে চাকরির যোগ্যতাই হবে মেধা। যোগ্যরাই এখানে চাকরি পাবেন।

ফলে দুর্নীতিমুক্ত পুলিশ প্রশাসন গড়তে বাহিনীর প্রধানের নির্দেশে জেলায় জেলায় প্রবল ঝাঁকি দিয়ে দেন এসপিরাও। তাঁরাই নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পুলিশ প্রধানের ‘শুন্য সহিষ্ণুতা’ নীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে ঘুষ ছাড়া চাকরির মতো অকল্পনীয়, অচিন্তনীয় ও অভাবনীয় চমক উপহার দিয়ে দেশের মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। জানতে চাইলে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মঈনুর রহমান চৌধুরী প্রতিবেদক কে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আইজিপি চেয়েছিলেন স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ। আমরা সেক্ষেত্রে শতভাগ সফল হয়েছি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে।’

যোগ্য ও মেধাবীদের চাকরির যত উদাহরণ:

মা হাজেরা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। বাবা জবদুল প্রামাণিক থেকেও নেই। পুলিশে আবেদনের জন্য তিন টাকা ফরমের মূল্য আর সরকার নির্ধারত পরীক্ষা ফি বাবদ ১০০ টাকা দিয়েছেন বোনের স্বামী। এরপর শারীরিক পরীক্ষার দিনে খরচা বাবদ ২০০ টাকা দিয়েছিলেন মা। সেই টাকায় যেন তাঁর জন্য হয়েছে আশীর্বাদ।

দারিদ্র্যের অন্ধকার গড়ে বেড়ে উঠা সাদিয়া সুলতানা এখন বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত সদস্য। ঘুষ, তদবির বা সুপারিশ ছাড়া কেবলমাত্র যোগ্যতার মাপকাঠিতেই তাঁর চাকরি নিশ্চিত হয়েছে। জানতে চাইলে নাটোর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল্লাহ আল মামুন প্রতিবেদক কে জানান, আমার জেলায় নিয়োগ পাওয়া ৬৯ জনের বেশিরভাগই দরিদ্র পরিবারের। মাননীয় আইজিপি স্যারের কঠোর নির্দেশনা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। যোগ্যরাই চাকরি পেয়েছে।

পরিবারের দু:খ ঘোচানোর স্বপ্ন নিয়ে পড়াশুনা করেছেন চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তরের বৈদ্যনাথপুর গ্রামের আরপি আক্তার। অটো রিকশা চালিয়ে নিজে, চার মেয়ে ও স্ত্রী’র ভরণপোষণ করা বাবা বাদশা কাজীর জন্য চরম কষ্টসাধ্য। এর মধ্যে একমাত্র আশার আলো এ মেয়েটি। তাঁর চাকরিতে সারা বাড়িতে অন্য রকম এক আনন্দ আবহ তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর কাওরান বাজারে কাঁচামালের শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন একই জেলার স্থানীয় কল্যান্দী গ্রামের শাহবুদ্দিন গাজী। তাঁর তিন সন্তানের একজন শাহনাজ আক্তার সম্প্রতি কনস্টেবল পদে নিয়োগ পেয়েছেন। দিনবদলের স্বপ্ন দেখছেন শাহবুদ্দিন।এ দু’টি কেস স্টাডি পুলিশ প্রধান ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর নিজের জেলা চাঁদপুরের।এসব বিষয়ে চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জিহাদুল কবির প্রতিবেদক কে বলেন, ‘স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে ১০৩ টাকার বিনিময়ে চাঁদপুর জেলায় ১১৫ জনকে কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে কথা দিয়েছিলাম। মাননীয় আইজিপি সাহস জুগিয়েছেন। আমি আমার কথা রাখার চেষ্টা করেছি।’

মেধায় চাকরি হয় না এমনটিই বিশ্বাস করতেন মানিকগঞ্জের বকুল আক্তার। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষার্থী বড় বোনের বাসায় থেকে পড়াশুনা করছেন। পুলিশে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করেই বাজিমাত করেছেন। ঘুষ ও তদবির ছাড়া কেবল মেধার জোরেই চাকরি হয়েছে তাঁর।জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) রিফাত রহমান শামীম জানান, বকুল আক্তারের মতো বেশিরভাগ নিম্নআয়ের পরিবারের সদস্যরাই পুলিশে চাকরি পেয়েছেন।

নরসিংদীর সেই জান্নাতি আক্তারের কথা মনে আছে? মাদক ব্যবসায় জড়িত না হওয়ায় মাস তিনেক আগে রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় স্থানীয় হাজীপুরের দশম শ্রেণীর ওই স্কুলছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ৪০ দিন দগ্ধ যন্ত্রণায় কাতরানোর পর গত ৩০ মে না ফেরার দেশে চলে যান।

সেই জান্নাতির বড় ভাই সাইফুল খান পুলিশে কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছেন। তাঁর পরিবারে এখন আনন্দের বন্যা। বিনা পয়সায় চাকরি পেয়ে এখন দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান সাইফুল। জানতে চাইলে নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিরাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জান্নাতির ভাই সাইফুল তার মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তাঁর মতোই সবাই শতভাগ স্বচ্ছতার মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন।

লালমনিরহাট জেলা শহরের খোচাবাড়ি এলাকার দিনমজুর আনোয়ার হোসাইনের ছেলে মনিরুল ইসলাম। যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে এমন মাইকিং শুনে চাকরির আবেদন করেন। পুলিশ কনস্টেবল পদে শারীরিক, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।

দারিদ্র্য জর্জর পরিবারের এ সদস্য এখন নিজেদের ভাঙাঘরে চাঁদের আলো।জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম রশিদুল হক বলেন, পুলিশে চাকরি লাখ লাখ টাকার খেলার দিন শেষ। এবারের নিয়োগ তাঁরই একটি দৃষ্টান্ত।

পিরোজপুুরে কোনো ঘুষ না দিয়ে শুধুমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশে চাকরি পেয়েছেন শাহজালাল শান্ত, আয়শা ও শ্রবণি ইসলাম। মেধার গরিমায় পুলিশ কনস্টেবল চাকরি নামের ‘সোনার হরিণ’ জুটেছে আয়শা ও শ্রবণিদের মতো ৩৩ জনের ভাগ্যে। তাদের বেশিরভাগই কৃষক এবং দরিদ্র পরিবারের। ঘুষ ছাড়া চাকরির যে দৃষ্টান্ত গোটা দেশে চলছে তাঁর আরেকটি উদাহরণ তৈরি করেছেন পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হায়াতুল ইসলাম খান।

এ বিষয়ে এ এসপি জানান, আমারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রেখেছি। এতে সাধারণ মানুষ খুশি। ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানগঞ্জ ইউনিয়নের হাটবাড়ীয়া গ্রামের রাশেদুল ইসলাম। ফরিদপুর রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। বাবা খোকন শেখ রাজধানী ঢাকার সাভার এলাকায় রিকশা চালান। ৫ সদস্যের ভারী সংসার চালানো তাঁর জন্য নিদারুণ কষ্টের। জীবনে চলার পথে তাকে দিশা দিয়েছে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি।ধানমন্ত্রীর ‘জনবান্ধব’ পুলিশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন
পুলিশ সম্পর্কে চিরায়ত ধারণাকে বিচূর্ণ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অসীম প্রাণশক্তি নিয়ে অভিনব গতি এবং সীমাহীন দু:সাহস নিয়ে কাজ করছেন পুলিশের আইজি ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের অনেক সুকৃতি জনগণের সামনে সমাদৃত হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পুলিশের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিটি শাখার ওপর তিনি কঠোর নজরদারি শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অপারস্নেহ এবং আশীর্বাদ তাকে শক্তি জুগিয়েছে।

এতে করে চিহ্নিত ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সৎ কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পুলিশ প্রধান এবারের কনস্টেবল নিয়োগেও ‘শুন্য সহিষ্ণুতা’ নীতি ঘোষণা করেন। এ নিয়োগে দুর্নীতির কোন কালিমা চাননি তিনি।

এজন্য শুরু থেকেই কেবলমাত্র নির্দেশনা দিয়েই দায় এড়াননি পুরো নিয়োগের বিষয়টি স্বচ্ছতার সঙ্গে সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে কয়েক স্তরে নজরদারিও করেছেন। এর মাধ্যমে নিয়োগের অধিকর্তারাও হিসাব কষে পথ চলছেন।

তাঁর এসব দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেশের সাধারণ মানুষকে আশান্বিত করেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ একটি মাইলফলক অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাদের ভাষ্য হচ্ছে- এমনটি সম্ভব হলেই কেবলমাত্র পূরণ হবে বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জনবান্ধব’ পুলিশের স্বপ্ন।