গত ১৬/০৮/১৯ তারিখ চন্ডিপুর গ্রামের হিলি বেকারী ৩০০ গজ উত্তরে কাচা রাস্তায় ০১ টি কালভার্টের নিচে একজন অজ্ঞাতনামা মহিলার লাশ পাওয়া যায়। হাটু সমান পানিতে মৃত দেহটা উপর করে, মুখটা কাদা পানিতে গুজানো। ১৬ তারিখে বিকেলে ০২ জন কিশোর ঐ রাস্তায় হাটার সময় ব্রিজের নিকট আসলে বোটকা গন্ধ পায়। এদিক সেদিক তাকিয়ে ব্রিজের নিচে তাকালে দেখে বেশ কিছু পচা ব্রয়লার মুরগি পানিতে ভাসছে।মুরগি গুলোতে পোকা কিলবিল করছে।ওরা সরে আসবে, ঠিক এমন সময় ওদের একজন লক্ষ্য করে যে, পানিতে মেয়ে মানুষের ০২ টি হিল ভেসে রয়েছে। ওদের মনে সন্দেহ হয়,আরো ভাল করে ব্রিজের নীচে উকি দিয়ে দেখে কালো বোরখা পরা একজন মেয়ে মানুষের শরীর দেখা যাচ্ছে।কিন্তু মুখটা কাদা পানিতে নিচের দিকে গুজানো। ওরা সাথে সাথে আমাদেরকে অবগত করে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথম প্রত্যক্ষদর্শীর নিকট থেকে এই বর্ননা শুনি।আমরা পুলিশ সুপার, দিনাজপুর মহোদয়কে ঘটনাস্থল থেকে ফোনে ঘটনার বিষয়ে অবগত করি। পুলিশ সুপার, দিনাজপুর ঘটনার উদ্ঘটন ব্যাপারে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

আশেপাশের সব থানায় ওসিদদের ফোন করে জানার চেস্টা করা হয় কোন মিসিং জিডি আছে কিনা। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় লোকজনদের সহায়তায় লাশটি পানি থেকে উত্তোলন করা হয়। শত শত মানুষ কিন্তু কেউ লাশের কোন পরিচয় নিশ্চিত করতে পারে না। পরে ডেড বডি থানায় নিয়ে আসা হয়। রাত ১১.০০ টা নাগাদ ডেড বডির পরিচয় বের করতে সক্ষম হন হাকিমপুর থানা পুলিশ। মেয়েটার নাম শারমিন। বাড়ী হাকিমপুর থানার খাট্রাউছনা (গড়িয়াল) গ্রামে।সে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকুরি করে। গত ইং ১৫/০৮/১৯ তারিখ সে বাড়ী আসার উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে রাত ৯.০০ টায় রওনা করে। মাঝ রাতের পর তার মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

মামলা রেকর্ড হওয়ার এক দিনের মধ্যে পুরো ঘটনা ডিটেক্ট করতে সক্ষম হয় হাকিমপুর থানা। খুনি শ্রী রাজু উড়াও@ নাছুয়া (৩০) পিতা- শ্রী বাসুয়া উড়াও সাং- চন্ডিপুর থানা- হাকিমপুর জেলা- দিনাজপুরকে গ্রেপ্তার করে হাকিমপুর থানা পুলিশ। তার হেফাজতে থাকা ভিক্টিমের ব্যাগ, ভ্যানিটি ব্যাগ, আইডি কার্ড, তার ইউনিয়নের নাগরিকত্ব সনদ উদ্ধার করেন।

পরবর্তীতে ইং ২০/০৮/১৯ তারিখ গ্রেপ্তারেকৃত খুনি শ্রী রাজু উড়াও@ নাছুয়া (৩০) পিতা- শ্রী বাসুয়া উড়াও সাং- চন্ডিপুর থানা- হাকিমপুর জেলা- দিনাজপুরকে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য প্রেরন করলে বিজ্ঞ আদালতে শ্রী রাজু তাকে জড়িয়ে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি প্রদান করে। খুনি রাজুর জবানবন্দি অনুযায়ীঃ

“আমি অটো রিক্সাচালক। ঘটনার দিন ১৬/০৮/১৯ ইং সময় রাত্রী অনুমান ৩.৩০ ঘটিকা। আমি অটো রিক্সা নিয়ে হিলি চার মাথার মোড়ে যাই। সেখানে ভাড়া মারার জন্য কিছুক্ষন অপেক্ষা করলে একটি ঢাকা থেকে বাস আসে। বাসের নাম জানি না। বাস থেকে একজন মহিলা যাত্রী নামে । বাসটি চলে যাবার পরে আমি তার নিকট জিজ্ঞাসা করি কোথায় যাবেন, সে কোথায় যাবে তার কোন উত্তর না দিয়ে সে আমার গাড়ীতে উঠে আমাকে অটো রিক্সা ঘুড়িয়ে চন্ডিপুরের রাস্তার দিকে যেতে বলে। তারপর গাড়ী নিয়ে কিছু দূর যাবার পর ভিক্টিম আমাকে বলে যে, সে এপিন্ডিসাইডের অপারেশনের রোগি যেন গাড়ী আসতে চালাই। আমি আসতে আসতে প্রায় ০১ কিঃমিঃ রাস্তা যাই।পাকা রাস্তা থেকে বৈগ্রামের রোডে কাচা রাস্তার দিকে যাই। সেখানে সামনে ০১টি কালভার্ট পাই। কালভার্ট উচু থাকার কারনে গাড়ীটি আমার আটকে যায়। তখন আমি ভিক্টিমকে বলি এখানে নামতে হবে। সেখানে ভিক্টিম নামলে আমি গাড়ী রেখে কয়েকটি চড় লাথি মারি ভিক্টিমকে। ভিক্টিম মাটিতে গড়াগড়ি করে। গড়তে গড়তে নিচে ধানের খতে পরে যায়। সেখানে গিয়ে আমি ভিক্টিমের গলায় পা দিয়ে চেপে ধরি। ফলে ভিক্টিম অজ্ঞান হয়ে যায়। আমি ভয় পাই ভিক্টিম হয়ত মরে গেছে।তারপর ভিক্টিমকে তার কাপড় ধরে টেনে সামনে ০১টি কাল্ভার্টের নিচে রেখে দেই। আমার রিক্সায় থাকা ভিক্টিমের ০২ টি ব্যাগ নিয়ে আমি আমার বাসায় আসি।”