সহকর্মীদের প্রতি ডিআইজি, রংপুর রেঞ্জ এর আহ্বান

প্রিয় সহকর্মী
আমার শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন।
বিগত ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রিঃ তারিখে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। উক্ত নির্বাচনকে ঘিরে জনমনে ছিল সংশয়, আতঙ্ক এবং বিপুল প্রত্যাশা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও এর পূর্বাপর সময়ে দেশবিরোধী দানবগোষ্ঠী কর্তৃক সংঘটিত নজিরবিহীন সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে এমন ধারনা থেকেই এই সংশয় এবং আতঙ্কের জন্ম। আপনার দৃঢ় পেশাদারী মনোভাবের কারণে এবং দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার ফলে ভীতি এবং উদ্বেগের পরিবর্তে উৎসবমূখর পরিবেশে এ রেঞ্জে উল্লেখযোগ্য কোন সহিংসতা ছাড়াই বিপুল সংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে আজ জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং একই সাথে বিপুল প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে।

               আইনের শাসন এবং ন্যায় বিচার একটি কল্যাণধর্মী রাষ্ট্রের মৌলিক বৈশিষ্ঠ্য। আপনাদের মাধ্যমেই এর বাস্তবায়ন অনেকাংশে সম্ভব। সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের পথে নবযাত্রার সূচনা লগ্নে আপনাদের কাছে আমার প্রত্যাশা, দায়িত্ব পালনে সততা, স্বচ্ছতা, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব। পুলিশি সেবা প্রদানের মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে থানা। থানা যেন অসহায় মানুষ এবং বিচার প্রার্থীর নির্ভয় আশ্রয়স্থল হয়। সাধারণ মানুষ যেন থানার পুলিশি কর্মকান্ডে পরিপূর্ণ আস্থাশীল হয়, আর্থিক লেনদেন ব্যতিত নির্বিঘ্নে থানা থেকে যেন প্রত্যাশিত সেবাটি পেতে পারে এটি আপনাকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। সেবা প্রদানকারী সকল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যগণ যেন বিচার প্রার্থী জনসাধারণের সাথে সৌজন্যমূলক এবং মানবিক আচরণ করেন, এটি নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

               রংপুর রেঞ্জের বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসা এবং জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগ প্রায় সময়ই শোনা যায়। এ দু’টি অপরাধ আরো অনেক অপরাধকে ডেকে আনে। সুতরাং মাদক এবং জুয়া কঠোর হস্তে বন্ধ করতে হবে। এছাড়া ছোটখাট সামাজিক অপরাধ থেকে কখনো কখনো বড় ধরনের সহিংসতা বা অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে। অতএব ছোট বড় সব ধরনের অপরাধ যাতে পুলিশের দৃষ্টিগোচর হয়, সে লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে তথ্য প্রাপ্তির উৎস তৈরী করতে হবে এবং তথ্য প্রাপ্তির সাথে সাথে সেখানে পুলিশি উপস্থিতি এবং যথাযথ আইনগত হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। তবে পেশাদার ‘সোর্স’ এর উপর নির্ভরশীলতা অবশ্যই হ্রাস করতে হবে। ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম দ্বারা সকল সড়ক এবং মহাসড়ককে নিরাপদ রাখতে হবে। ঘরে এবং ঘরের বাইরে নারী এবং শিশুর প্রতি যেসব সহিংসতা এবং অপরাধ হয়ে থাকে তা প্রতিরোধকল্পে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

আমি বিশ্বাস করি, পেশার প্রতি আন্তরিকতা, নীতিবোধ এবং দেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও মমতা থাকলে সমাজ থেকে উল্লিখিত অনিয়ম এবং অপরাধসমূহ দুর করে একটি সুন্দর সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা আপনার পক্ষে সম্ভব।

মনে রাখতে হবে, অজস্র নারীর সম্ভ্রম, ৩০ লক্ষ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের মানুষের মুক্তির জন্য বারবার শৃঙ্খলিত হয়েছেন, জীবনভর সীমাহীন দুর্ভোগ হাসিমুখে সহ্য করেছেন। নিজের রক্ত দিয়ে, স্ত্রী সন্তানের রক্ত দিয়ে তিনি এদেশের মানুষের ভালবাসার ঋণ শোধ করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর এই রক্তের ঋণ আমাদের উত্তরাধিকার। আমাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য অগনিত মানুষ তাদের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। এখন আমাদের প্রত্যাশিত বর্তমান এবং ভবিষ্যৎকে রচনা করার সময় এসেছে।

আসুন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সৎ এবং পেশাদারী দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কাঙ্খিত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করে আমরা আমাদের সুন্দর আগামীকে রচনা করি।

মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সহায় হোন।

শুভেচ্ছাসহ
দেবদাস ভট্টাচার্য্য বিপিএম
ডিআইজি
রংপুর রেঞ্জ, রংপুর